লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের নিকটে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ঘটনাকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটিকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইএনআইএফআইএল-এর শান্তিরক্ষীরা তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার একটি ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করেছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অননুমোদিত অস্ত্র ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সমন্বয় ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। ডুজারিক আরও জানান, বৃহস্পতিবার লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিনত জবেইল এলাকার নিকটে তিনটি মপেডে থাকা ছয়জন ব্যক্তি টহলরত শান্তিরক্ষীদের গাড়ির পেছনে প্রায় তিনটি গুলি ছোড়ে।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এটি ১৭০১ প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে চাপ প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি এলাকায় সেনা মোতায়েন রেখেছে, যেগুলোকে তারা কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আউন ‘ইসরায়েলি পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও সেনা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন’ এবং প্রতিনিধিদলের কাছে কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র : এএফপি, মিডল ইস্ট মনিটর ও ইউনাইটেড নেশন পিসকিপিং।