• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতি মুহূর্তে মাদুরোর তথ্য মার্কিন বাহিনীকে দিচ্ছিলেন যিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৪:০৮ অপরাহ্ণ
প্রতি মুহূর্তে মাদুরোর তথ্য মার্কিন বাহিনীকে দিচ্ছিলেন যিনি

ফাইল ছবি

সংবাদটি শেয়ার করুন....

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। স্বল্প সময়ের এই অভিযানে দুর্গসম নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে যেভাবে প্রেসিডেন্টকে বন্দি করা হয়, তা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানের সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল একজন বিশ্বাসঘাতকের। তিনি ছিলেন মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের চলাফেরা, অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র কাছে পাঠাচ্ছিলেন। ফলে অভিযানের সময় মাদুরোর অবস্থান ও নিরাপত্তা বলয় সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা ছিল মার্কিন বাহিনীর।

দীর্ঘ প্রস্তুতি

‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ ও এফবিআই। বহু মাস ধরে চলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিকবার মহড়া দেওয়া হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে একটি নকল স্থাপনা তৈরি করে সেখানে অনুশীলন চালায়। কীভাবে শক্ত নিরাপত্তা ভেদ করে ভবনটিতে প্রবেশ করা হবে, তার প্রতিটি ধাপ ছিল নিখুঁতভাবে নির্ধারিত।

সূত্র জানায়, গত আগস্ট থেকেই সিআইএ’র একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিন, সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠায়। এতে ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর চার দিন আগে অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেন তিনি।

ঝড়ের গতিতে অভিযান

শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ২০টি ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি আকাশযান অভিযানে অংশ নেয়, যার মধ্যে ছিল এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোমারু বিমান। হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ মার্কিন স্পেশাল ফোর্স রাজধানীতে প্রবেশ করে।

রাত একটার দিকে মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে পৌঁছালে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, এতে একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেনা ও এফবিআই সদস্যরা ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবনে প্রবেশ করে।

মাদুরোকে বন্দি

ভবনের ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। ট্রাম্প জানান, মাদুরো সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেও সময়মতো দরজা বন্ধ করতে পারেননি। অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ছাড়ার সময় মার্কিন বাহিনী একাধিক আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষে জড়ায়। ভোর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রসীমায় পৌঁছায়, তখন মাদুরো ও তার স্ত্রী সেগুলোর ভেতরেই ছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...