ডিগ্রি সুযোগ দেয়, শিক্ষা দায়িত্বশীল করে তোলে : শিক্ষা উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, পড়াশোনা যদি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই পড়াশোনা কার্যত অব্যবহৃত থেকে যায়। ডিগ্রি মানুষের সামনে সুযোগের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে।
সোমবার চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কনভোকেশন চেয়ার হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন নতুন জীবনের পথে পা রাখছে, যেখানে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সময় নিয়ে ভেবে-চিন্তে, যুক্তি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এমনকি একজন সাধারণ কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিচার, মানবিকতা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে হবে। কেবল প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ও ন্যায্যতাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ একটি বড় ধরনের উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের ভাবতে হবে কোনটি ন্যায়সঙ্গত এবং কোনটি অন্যায়। আমরা কি অতীতের সেই ব্যবস্থার দিকে ফিরে যাব, যা আমাদের সংকট ও বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছিল, নাকি একটি নতুন ও মানবিক ব্যবস্থার পথে এগোব? শুধু ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের চিন্তা না করে বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বের কথাও মাথায় রাখতে হবে। ন্যায়নীতি, সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান ও ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি অর্জনের মাধ্যমে জীবনের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না; বরং সমাজের জন্য আমরা কী অবদান রাখছি, সেটিই প্রকৃত মাপকাঠি।
গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ আমরা অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি পুনরায় বলেন, নতুন জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন সুবিবেচনা, যুক্তি ও ন্যায়বোধের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও সুবিচার যেন কখনো উপেক্ষিত না হয়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, সন্তানদের শিক্ষার পেছনে যে ত্যাগ ও বিনিয়োগ রয়েছে, তা যেন নৈতিকতা, যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার মাধ্যমে সার্থক হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।