বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। দলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে ছাড়াই মাঠে নেমে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক দেখিয়েছে তারা। প্রথমার্ধ জুড়ে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রেখে দুই গোল আদায় করে স্বস্তির ব্যবধানে বিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পুলিসিকের অনুপস্থিতিতে একাদশে সুযোগ পাওয়া হাজি রাইট শুরু থেকেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন। তার গতিময় দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখে পুরো প্রথমার্ধজুড়ে।
এই চাপের মুখেই ম্যাচের ১১তম মিনিটে বড় ভুল করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান বার্জেস। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা একটি বিপজ্জনক ক্রস প্রতিহত করতে গিয়ে বলের দিক নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার গায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেয় ১-০ ব্যবধানে।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকরা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্সকে প্রায় প্রতিটি মুহূর্তেই সতর্ক থাকতে হয়েছে।
প্রথমার্ধের শেষদিকে এসে সেই চাপেরই ফল পায় স্বাগতিকরা। ৪৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকের সুযোগ কাজে লাগায় যুক্তরাষ্ট্র। নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইট ব্যাক অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। তার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
পুরো প্রথমার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থনকে শক্তিতে পরিণত করে শুরু থেকেই উচ্চগতির ফুটবল খেলেছে তারা। মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বক্সে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেয়।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। আক্রমণে ওঠার সুযোগ খুব কম পেয়েছে তারা। বেশিরভাগ সময়ই কাটাতে হয়েছে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত থেকে।
দুই গোলে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার জন্য দ্বিতীয়ার্ধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাচে ফিরতে হলে আক্রমণে আরও কার্যকর হতে হবে তাদের। আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে একই ছন্দ ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে।