• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র আবদুস সাদেককে শেষ বিদায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৬, ২২:১৩ অপরাহ্ণ
ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র আবদুস সাদেককে শেষ বিদায়
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাদ আসর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও ভক্ত রেখে গেছেন।

আবদুস সাদেক ছিলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। হকি, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় তার দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়। অবিভক্ত পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক হিসেবেও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন।

১৯৬৯ সালে ইউরোপ সফরে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলেন তিনি। সেই সফরে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। পরে ১৯৭৭ সালে আবাহনীর কোচের দায়িত্ব নিয়ে দলকে ইতিহাসের প্রথম অপরাজিত লিগ শিরোপা উপহার দেন। সেই মৌসুমে আবাহনী কোনো ম্যাচে হারেনি, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।

খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে সফলতার পর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আবদুস সাদেক। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগ ও কূটনৈতিক দক্ষতায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকির আয়োজনের সুযোগ পায় বাংলাদেশ, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসেও জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেন এই ক্রীড়া কিংবদন্তি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।