ডিএনসিসির জলাবদ্ধতায় চরম বিপর্যস্ত আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন ২ হাজার লোক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১২, ২০২৬, ২১:৫৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত দক্ষিণখান এলাকার আশকোনা সিটি কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে।
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে পুরো এলাকা আবারও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অতি বর্ষণে জলাবদ্ধতার কারণে ৫০০ কেভিএ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে পানি প্রবেশ করায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহের সাব- স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ফলে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অনেক বাসিন্দার পক্ষে সেখানে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ মে অঞ্চল-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম উন্নয়নকাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ৭ দিনের মধ্যে পানির উচ্চতা দুই থেকে আড়াই ফুট কমে যাবে।
তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কমপ্লেক্সের সামনে ও পেছনে দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকলেও লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। তাদের দাবি, নির্ধারিত দিকের পরিবর্তে পানি উল্টো দিকে প্রবাহিত হওয়ায় সিটি কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে কমপ্লেক্সের উত্তর পাশের ভবনগুলো তুলনামূলকভাবে জলমুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দারা আরও জানান, দক্ষিণখানসহ আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কসাইবাড়ি এলাকায় কিছু কাজ হয়েছে এবং পানি নামতেও শুরু করেছে।
তবে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এছাড়া আশকোনা বাজার সংলগ্ন পানি অপসারণের সংযোগ স্থানটি নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ও প্রকৌশলী ফাহিম সংযোগ দিতে কালক্ষেপণ করায় জলাবদ্ধতার একটি বিশেষ কারণ যা স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব সিটি কমপ্লেক্সের পানি অপসারণে দুটি ছোট পাম্প সরবরাহ করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অঞ্চল-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাটি আমাদের পরিকল্পনা তথা সেনাবাহিনীর চলমান প্রকল্পের তুলনায় প্রায় পাঁচ ফুট নিচু হওয়ায় পানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আরও কাজ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী সড়ক দুটির পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হলে সিটি কমপ্লেক্সে এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হতো না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।