বর্তমান সরকারে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে আসিফ মাহমুদ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ১৭:৫৫ অপরাহ্ণ
যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন। সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শেয়ার করুন....
যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন বলেছেন, এ সরকারের সময়ে সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতি, তদবির ও ঘুষ–এ ধরনের সব অভিযোগ যাঁর নামে সবচেয়ে বেশি ওঠেছে, তিনি হলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি উল্লেখ করেন, সচিবালয়ে সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ নামে একটি প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, টেন পার্সেন্ট কমিশন ছাড়া কোনো কাজ হয় না—এমন ধারণা সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে আছে।
রাজধানীর পল্টনে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সদ্য পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, সজীব ভূঁইয়ার ঘোষিত ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রার ব্যয়-ব্যবহার কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, পদত্যাগের সময় ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকা থাকলেও এখনও সেই হিসাব অপরিবর্তিত রয়েছে। অবৈধ অর্থ ব্যাংকে না রেখে বিটকয়েন, সুইস ব্যাংক বা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের কাছে সংশ্লিষ্টদের বিটকয়েন অ্যাকাউন্ট তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও সজীব ভূঁইয়ার হাতে সবুজ পাসপোর্ট এখনো রয়েছে। তিনি দাবি করেন, লাল পাসপোর্ট জমা দিলেও ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখা হয়ে থাকে—এটিকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না।
মনজুর মোর্শেদ মামুন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন কলুষিত হওয়ার ঝুঁকি আছে। বিপুল অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার প্রভাব নির্বাচনকে অসম করে দিতে পারে—এ কারণে তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান, আগামী নির্বাচনে এসব ব্যক্তির অংশগ্রহণ সীমিত রাখতে। যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, তাঁদের সংগঠন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্নীতিবাজ বা অনৈতিক ব্যক্তির সংগঠনে কোনো স্থান নেই। তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে তাঁদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার থেকে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না।
মামুন জানান, যদি সরকার বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত না করে, তবে প্রেস ক্লাবের সামনে ‘জনতার আদালত’ গঠন করে তাঁদের কাছে থাকা তথ্য–উপাত্ত সেখানে প্রকাশ করা হবে।