• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে নোরা ফাতেহির মতো বানাতে শিক্ষক স্বামীর অদ্ভুত কাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৫, ১৬:৩০ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে নোরা ফাতেহির মতো বানাতে শিক্ষক স্বামীর অদ্ভুত কাণ্ড
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রোগা ছিপছিপে গড়ন বানাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তার অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে বাধ্য করতেন স্বামী। শরীরচর্চা না করলে খেতেও দিতেন না স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।

গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী চান বলিউড অভিনেত্রীদের মতোই স্ত্রীর শরীরের গড়ন হোক।

বিশেষত অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির ফিগারই তার সবচেয়ে পছন্দ। নোরার মতো আকর্ষণীয় শরীরের জন্যই স্ত্রীকে জোর করে টানা কয়েক ঘণ্টা শরীরচর্চা করাতেন স্বামী। ঘটনাটি ভারতের গাজিয়াবাদের মুরাদনগরে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, অভিযোগকারী ওই নারীর বয়স ২৬ বছর। চলতি বছরের ৬ মার্চ তার বিয়ে হয় মীরাটের সরকারি স্কুলে চাকরিরত ২৮ বছর বয়সী শরীরচর্চা শিক্ষক শিবম উজ্জ্বলের সঙ্গে। বিয়েতে কনের পরিবার প্রায় ৭৭ লাখ রুপি ব্যয় করে, যার মধ্যে ২৪ লাখ রুপির একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও, ১৬ লাখ রুপির গয়না এবং ১০ লাখ রুপি নগদ দেওয়া হয়।

তবু বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও নগদ অর্থ, জমি ও দামি পোশাকের জন্য তাকে হয়রানি করতেন বলে জানান ওই নারী। অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি তাকে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত রাখতেন, স্বামীকেও সময় দিতেন না এবং বাইরে যেতেও বাধা দিতেন। একবার শুধু মশারি না টানায় স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে একা রেখে নিজের কক্ষে চলে যান। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গালিগালাজ করতেন এবং স্বামী শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।

শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে নিয়মিত শরীর নিয়ে অপমান করা হতো।

নারী জানান, ‘আমার গড়ন নিয়ে স্বামী প্রায়ই মোটা ও কালো বলত। আমার মতো কাউকে বিয়ে করে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি আরো জানান, স্বামী নারীদের অশালীন ভিডিও দেখতেন এবং অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। একবার এক নারী ‘মাহি’র সঙ্গে তার চ্যাট ধরে ফেললে স্বামী তাকে চড় মারে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, নিজের গর্ভধারণের খবর জানালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পরে তার ননদ রুচি একটি ওষুধ খেতে দেন। অনলাইনে খুঁজে তিনি জানতে পারেন, সেটি গর্ভপাত ঘটানোর ওষুধ। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, তার গর্ভপাত হয়ে গেছে।

গত ২৬ জুলাই তিনি শ্বশুরবাড়ি ফিরে গেলে তাকে আর বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তার গয়না ও কাপড়চোপড় ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে রয়েছেন।

নারীটি ১৪ আগস্ট গাজিয়াবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—পণদানের জন্য চাপ সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, গর্ভপাত ঘটানো, ব্ল্যাকমেইল এবং বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকির মতো গুরুতর বিষয়।

গাজিয়াবাদের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) ধবল জয়সওয়াল জানান, স্বামী শিবম উজ্জ্বল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা (এফআইআর) নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।