• ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কে প্রস্তুত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ২০:৩৭ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কে প্রস্তুত প্রবাসী বাংলাদেশিরা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে জ্যাকসন হাইটসসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রস্তুতি বিশেষভাবে দৃশ্যমান। সেখানকার সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন স্বাগত কর্মসূচি সফল করতে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভাও করেছে।

এসব কর্মসূচির বড় অংশে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য সংগঠন নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে। বিমানবন্দর ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নির্ধারিত কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং দলের সাবেক নেতাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৪টি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত একটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছেন। এসব প্রচারসামগ্রীতে তারেক রহমানের পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

সফরে দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানাবেন তিনি।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও এবারের জাতিসংঘের কার্যক্রমে গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু কর্মসূচি ও ন্যায্য রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ আয়োজনে বৈশ্বিক অসমতা সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-আয়োজনেও তিনি অংশ নেবেন।

সেখানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফারি সেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনারের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সুযোগ, মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক জাতিসংঘ কার্যক্রম আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশের মাধ্যমে শুরু হবে। এরপর তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।

তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অধিবেশনের কার্যক্রমেও বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...