• ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই হবে কিংমেকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই হবে কিংমেকার
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মুখোমুখি অবস্থান দিন দিন আরও জটিল আকার নিচ্ছে। এর সঙ্গে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনের সমীকরণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনও প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এই ভোটারদের ভোটই সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশ এই ভোটব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের জাতীয় নির্বাচনে কখনো ভোটার উপস্থিতি ৪০ শতাংশের নিচে নেমেছে, আবার কখনো ৮৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাত্র ১০ শতাংশ ভোটই জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করে দিতে পারে। ফলে এসব ভোটারকে কেন্দ্রে আনা এবং নিজেদের পক্ষে টানাই এখন ক্ষমতাপ্রত্যাশী দল ও জোটগুলোর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাছে পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দল ও জোট। মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লা, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘স্টার নির্বাচনি সংলাপ’-এ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বাক্সে নেওয়ার জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোও এই টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসালটিংয়ের এক জরিপে আওয়ামী লীগের প্রতি ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ সমর্থন দেখা গেলেও, নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটারদের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ১৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। একই জরিপে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

পরবর্তী সময়ে ১২ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ জামায়াতকে, ৭ দশমিক ১ শতাংশ এনসিপিকে এবং ৩ দশমিক ১ শতাংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দিতে চান। ওই জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন, যাদের বড় অংশ আওয়ামী লীগপন্থি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, পাঁচ থেকে দশটি ভোটেও জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে। সেখানে ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোট নাও দিতে পারেন, ব্যালট নষ্ট করতে পারেন কিংবা বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে কট্টর আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে ভোটদানে বিরত থাকার প্রবণতার আভাস মিলছে। অনেক ভোটার বিভক্ত হয়ে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কোন দল কতটা রাজনৈতিক সংস্কার করেছে, পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে এবং তাদের আচরণ কেমন ছিল—এসব বিষয় ভোটারদের বিবেচনায় থাকবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন মনে করেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কোন দল বা প্রার্থী এই ভোট পাবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর। যারা নিরাপদ আশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়েছে, ভোটাররা সাধারণত তাদেরই বেছে নেবে। এলাকাভেদে এই চিত্র ভিন্ন হতে পারে।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...