• ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
সংবাদটি শেয়ার করুন....

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্মগত নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আছে কি না, তা নিয়ে শুনানি করতে সম্মতি জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের দিনই অবৈধভাবে বসবাস করা পিতা–মাতার সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যদিও পরে তা কয়েকটি নিম্ন আদালতে আটকে যায়। সুপ্রিম কোর্ট এখনো শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেনি এবং রায় পেতেও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও আমেরিকান নাগরিকত্বের সংজ্ঞায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘ প্রায় শত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী বলবৎ রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—দেশটিতে জন্ম নিলে সে-ই মার্কিন নাগরিক; কেবল বিদেশি সামরিক বাহিনী ও কূটনীতিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে: “যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেন বা নাগরিকত্ব পান এবং এর এখতিয়ারাধীন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।”

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল—অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী পিতা-মাতার সন্তানদের জন্মগত নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধ করা, যা তাদের বৃহত্তর অভিবাসন পুনর্গঠন উদ্যোগের অংশ। প্রশাসনের দাবি—‘সাবজেক্ট টু দ্য জুরিসডিকশন দেয়ারঅফ’ বলতে আইনসম্মত বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদেরই বোঝানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ন্যাশনাল লিগ্যাল ডিরেক্টর সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, কোনো প্রেসিডেন্টই ১৪তম সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, দেড়শ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চর্চা—দেশটির মাটিতে জন্ম নিলে জন্ম থেকেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়; এবার সুপ্রিম কোর্টে স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির প্রত্যাশা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি দেশের একটি, যেখানে সীমান্তের ভেতরে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব মেলে। নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ওঠা আইনি চ্যালেঞ্জে কয়েকটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করেছে, যদিও দুটি আপিল আদালত স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে।

পরবর্তীতে ট্রাম্প স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলে কোর্ট নিম্ন আদালত কর্তৃত্ব ছাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে, তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তখন কোনো রায় দেয়নি। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া মুক্ত দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে ১৮৬৮ সালে ১৪তম সংশোধনী গৃহীত হয়, এর আগে ১৮৬৫ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাউয়ের দাবি—এই সংশোধনী মূলত মুক্ত দাস ও তাদের সন্তানদের জন্য প্রণীত, অবৈধ বা সাময়িকভাবে আগত বিদেশিদের জন্য নয়; এবং “মাটিতে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব” ধারণাকে তিনি ‘ধ্বংসাত্মক পরিণতি’ উল্লেখ করেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে জন্ম নেয় প্রায় আড়াই লাখ শিশু—যা ২০০৭ সালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। ২০২২ সাল পর্যন্ত অননুমোদিত অভিবাসী পিতা-মাতার ঘরে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ১২ লাখ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে—জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ২০৪৫ সালের মধ্যে অননুমোদিত জনসংখ্যা অতিরিক্ত ২৭ লাখ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে তা ৫৪ লাখে পৌঁছাতে পারে।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...