• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘এলপিজি অটোগ্যাসের সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
‘এলপিজি অটোগ্যাসের সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ’
সংবাদটি শেয়ার করুন....

এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে সারা দেশে প্রায় সব অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। অটোগ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সিরাজুল মাওলা।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে এলপিজির মোট চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অটোগ্যাস খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহন করা উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, চাহিদা অনুযায়ী অটোগ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন সংকট না তৈরি হয় সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি ভাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় তা ১৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলপিজি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। ডিসেম্বর মাসে সেই আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধির পরও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...