• ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলের রেকর্ড গড়েও কি ব্যালন ডি’অর জিতবেন এমবাপ্পে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ণ
গোলের রেকর্ড গড়েও কি ব্যালন ডি’অর জিতবেন এমবাপ্পে?
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গোলের পর গোল করে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়লেও গত মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবু ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের আশায় রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের এই তারকা। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার অভাব তাঁর পুরস্কার জয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে কোনো শিরোপা না জেতায় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাজির দর অনুযায়ী তিনি এগিয়ে না থাকলেও পুরস্কারটি জিততে নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। আগামী সোমবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি গোল করেন এমবাপ্পে। দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে সফল হলেও দল হিসেবে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ।

জাতীয় দলের হয়েও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে উঠে আসেন এমবাপ্পে। ২২ ম্যাচে তাঁর গোল ২২টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা ২১।

তবে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অর্জনের বিপরীতে দলীয় সাফল্যের ঘাটতি রয়েছে। লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে চতুর্থ হয়েছে ফ্রান্স।

এ পরিস্থিতিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থানও শক্তিশালী। স্পেনের লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপ ও লা লিগার শিরোপা জিতেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনও গত মৌসুমে তিনটি শিরোপা জিতেছেন।

এমবাপ্পে অবশ্য মনে করেন, ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ। ফরাসি রেডিও আরএফআইকে তিনি বলেন, ‘খামের মধ্যে কোনো দলের নাম ঘোষণা করা হবে না, একজন খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।’

গত এক দশকে ব্যালন ডি’অরজয়ীদের প্রত্যেকেই পুরস্কার জয়ের বছরে অন্তত একটি শিরোপা জিতেছেন। ২০২৫ সালে পুরস্কার পাওয়া উসমান দেম্বেলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালে পুরস্কারজয়ী রদ্রি স্পেনের হয়ে ইউরো এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিলেন।

বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জয়ের সর্বশেষ নজির ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ২০১৩ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৬ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। রোনালদোর সেই অর্জন এমবাপ্পের জন্য আশার দিক হতে পারে।

এবারের মনোনয়নের আগে নয়বার ব্যালন ডি’অরের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন এমবাপ্পে। ২০২৩ সালে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। এবারও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে শক্ত অবস্থানে থাকলেও প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিততে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার অভাব তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।