
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলাধীন কনেশ্বর ইউনিয়নের আতলা কুড়িগ্রাম এলাকায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি প্রবাসী মোঃ রিপন সরদারকে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে তারই এক বাড়ির শরিক মোঃ হান্নান সরদারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রিপন সরদার ওই এলাকার মৃত আমির হোসেন সরদারের ছেলে। জানা যায়, তাদের বাড়িতে প্রায় ১০ জন শরিক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত। বাড়ির অন্যান্য শরিকরা নিজ নিজ উদ্যোগে নান্দনিক ও সৌন্দর্যবর্ধক পাকা ঘর ও বিল্ডিং নির্মাণ করছেন, যা এলাকাবাসীর চলাচলের উপযোগী রাস্তার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র জানায়, বাড়ির সামগ্রিক সৌন্দর্য ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রবাসী রিপন সরদার অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পিতভাবে বিল্ডিং নির্মাণের প্রস্তাব দেন। অধিকাংশ শরিক এতে একমত হলেও মোঃ হান্নান সরদার নিজের ইচ্ছামতো বাথরুম ও কিচেন স্থাপন করায় অন্য শরিকদের চলাচল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বারবার অনুরোধ করা হলেও হান্নান সরদার কোনো কর্ণপাত না করে উল্টো রিপন সরদারের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুয়া ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করে হয়রানি শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হান্নান সরদারের দায়ের করা অন্তত দুটি মামলাই বিজ্ঞ আদালত খারিজ করে দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিকল্পিতভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হান্নান সরদার রিপন সরদারসহ অন্যান্য শরিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছেন। এমনকি তার আপন দুই ভাই মান্নান সরদার ও বোরহান সরদারের সাথেও দুর্ব্যবহার এবং জমি বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হান্নান সরদার তার প্রভাব ও লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে বাড়ির অন্যান্য শরিকদের কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন। বিশেষ করে তার ভাগিনা রফিকুল ইসলাম শিপু (ঢাকা প্রবাসী) মামলার তদবির ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত—এমন অভিযোগও এলাকায় শোনা গেছে।
সৌদি আরব থেকে টেলিফোনে রিপন সরদার জানান,
“আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। কিন্তু মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয়ে দেশে ফিরতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে যেসব মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভুয়া মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে তিনি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা কামনা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।