
দেশে পরিবর্তন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে হলে গণভোটে অংশগ্রহণ করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। জনগণ যদি পরিবর্তন ও সংস্কার চায়, তাহলে গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ ভোট দেওয়াই হবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন। হ্যাঁ ভোট দিলে জনগণ কী কী সুবিধা পাবে এবং না ভোট দিলে কী কী থেকে বঞ্চিত হবে—সেটা সরকার পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরছে। কেউ যদি না ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে চায়, সেটি তার দলীয় সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার আগেও যে অবস্থান জানিয়েছে, এখনো সেটিই বহাল রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। তবে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মধ্যে সংশয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে তারা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও একই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এসব কুটকৌশলের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন আদৌ হবে কি না—সে বিষয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করা।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ একেবারেই থাকবে না—এমনটি অসম্ভব। কেউ যদি মনে করে তার এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশে ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে সে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইনেই এসব অভিযোগের প্রতিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনে এই প্রতিকার ব্যবস্থার কারণই হলো—এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জনগণ সচেতন, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা যাবে না। তারা সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট—দুটিতেই অংশ নিয়ে নিজেদের নেতা ও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব ৩০০ আসনে এমন অভিযোগ নেই। একটি বা দুটি জায়গায় যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ জানাবে এবং নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ জানানোর পরও যদি প্রতিকার না পাওয়া যায়, তখন সেটি সত্যিকার অর্থেই প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।