বন বিভাগের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেল হস্তীশাবক ‘বীরবাহাদুর’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকায় সনাতন পদ্ধতিতে বেঁধে ‘হাদানি’ বা প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় সাত বছর বয়সী একটি হস্তীশাবককে মুক্ত করেছে বন বিভাগ। ‘বীরবাহাদুর’ নামের ওই শাবকটিকে পরে স্থানীয় কালাপাহাড় জঙ্গলে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৪২ বছর বয়সী পোষা হাতি সুন্দরমালার একমাত্র সন্তান বীরবাহাদুরকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে একটি খোলা জায়গায় বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং পায়ে মোটা দড়ি দিয়ে শিকল পরানো হয়। প্রশিক্ষণে পাঁচজন মাহুত নিয়োজিত ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আপত্তি জানান এবং তাদের অনুরোধে শাবকটিকে মুক্ত করা হয়। এর আগে ১ জানুয়ারি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে গভীর গর্ত করে গাছের খণ্ড পুঁতে তার সঙ্গে বীরবাহাদুরের সামনের দুই পা ও পেছনের এক পা শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সে বারবার ডাকছিল। হাতিটির মালিক কর্মধা গ্রামের সোনা মিয়া বছরখানেক আগে মারা যান, বর্তমানে তার ছেলে মো. কামরুল ইসলাম চারটি হাতির দেখভাল করছেন, যার মধ্যে দুটি বন বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত। প্রধান মাহুত আশিক আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাতি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন এবং হাদানিতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে, যেখানে মাহুতের কথা ও ইশারা শেখানো হয়, তবে মায়ের উপস্থিতিতে সন্তানকে প্রশিক্ষণ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন। এলাকাবাসী জানান, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসব হাতি পাহাড়ি এলাকায় গাছ টানা কিংবা সার্কাস ও প্রদর্শনীতে ভাড়া দেওয়া হয়। বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জের নলডরি বিট কর্মকর্তা রতন চন্দ্র দাস বলেন, সনাতন প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে হাতির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায় এবং ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় শাবকটিকে মুক্ত করা হয়। পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক জানান, এ ধরনের হাদানি পদ্ধতিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হয় এবং এর বিকল্প হিসেবে ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং’ কার্যকর, যেখানে মায়ের সঙ্গেই নির্যাতন ছাড়াই হাতির বাচ্চাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের সেভ এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গাজীপুর সাফারি পার্কে জয়িতা নামের তিন বছর বয়সী একটি হস্তীশাবককে তার মায়ের সঙ্গে রেখে এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ইতিবাচক ফল মিলছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, যুগ যুগ ধরে প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে হাতিকে কষ্ট সহ্য করতে হয়, তাই এই পদ্ধতি থেকে মাহুত ও মালিকদের বের করে এনে গাজীপুর সাফারি পার্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে সারাদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।