বাজেট আলোচনায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার, ব্যবসা শুরু হবে মাত্র ১৪ দিনে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৯, ২০২৬, ১৮:০৯ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর গড় সময় ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে নতুন কোম্পানিকে মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স ও পারমিট প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু থেকে কার্যক্রমে যেতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। এটি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একটি নতুন কোম্পানি মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পর্যায়ে যেতে মাত্র ১৪ দিন লাগবে। তবে সব ধরনের লাইসেন্স ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার লাইসেন্সসহ কিছু ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন ও যাচাই প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন সংস্থার পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বিত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো গঠন করা হচ্ছে।
অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে আর সরাসরি যেতে হবে না। একটি অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন ও ফি জমা দিলেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে আরজেএসসি, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি অবসায়ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ চলছে বলেও জানান তিনি।
বাজেটের প্রশংসা করে মুক্তাদির বলেন, এবারের বাজেট তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বাজেটকে স্টেবিলিটি, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ-নির্ভর বলে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, বাজেটের মূল ফোকাস মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর।
সম্ভাবনাময় খাত চামড়া ও পাট খাতকে ভবিষ্যতের বড় রপ্তানি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পাট খাতে গবেষণা ও বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাজেটের লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।