• ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি এসএম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা , প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মীরা

তুরাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা; তদন্তে তথ্য তুলে ধরলেন সংশ্লিষ্টরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৬, ২২:৩৪ অপরাহ্ণ
এমপি এসএম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা , প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মীরা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, সম্প্রতি তুরাগ নদীতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ফটোকার্ড প্রকাশ করে সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দলটির নেতাকর্মীরা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে জড়িয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তুরাগ নদীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল নেই। তারা দাবি করেন, একটি ফেসবুক পেজ থেকে “তুরাগ ট্র্যাজেডি” শিরোনামে এমপি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন দুপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে কয়েকজন নেতাকর্মী নৌকাযোগে তুরাগের বেরিবাঁধ এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে নৌকায় থাকা কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে। পরদিন নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন তুরাগ এলাকার সুমন এবং রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরিজর হরিশ্বর গ্রামের মো. আরিফুল ইসলাম।

আশুলিয়া থানা পুলিশের দাবি, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে পানিতে ঝাঁপ দেওয়া দুই ব্যক্তি ডুবে মারা যান। ঘটনাস্থলে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার কিংবা অধিকসংখ্যক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও পুলিশের ভাষ্য।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের ছবি ব্যবহার করে এমনভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছায়। তাদের দাবি, ওই প্রচারণার মাধ্যমে তুরাগের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে তারা ধারণা করছেন, সংশ্লিষ্ট পেজটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিএনপির নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ভুক্তভোগীও গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া উচিত একমাত্র ভিত্তি।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।