দিয়াবাড়িতে সরকারি প্রকল্পের জমি ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন; ভবন মালিকের স্বীকারোক্তি, অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ
মো: জাহেদী আরমান
প্রকাশিত নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি গোলচত্বরসংলগ্ন ১৫ নম্বর সেক্টরে মেট্রোরেলের জন্য নির্ধারিত বলে স্থানীয়দের দাবি করা জায়গায় নির্মিত হয়েছে চারতলা ভবন। মাইলস্টোন কলেজের পূর্ব পাশে নির্মিত ভবনটির ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ভবন মালিক আবদুল্লাহ আল মামুন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের ঘটনায় সরকারি প্রকল্পের জমি সুরক্ষা, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালন নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়াবাড়ি গোলচত্বরের পাশে ১৫ নম্বর সেক্টরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থানটি মেট্রোরেলের অবকাঠামো কিংবা সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সরকারি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমির অবস্থান ও ব্যবহার নিয়ে যথাযথ যাচাই ছাড়াই কীভাবে চারতলা ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
ভবনটির নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়ে জানতে ভবন মালিক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজউকের কোনো অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর এই বক্তব্য ভবনটির নির্মাণপ্রক্রিয়া ও আইনগত বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে জমিটির প্রকৃত শ্রেণি, মালিকানা, মেট্রোরেল প্রকল্পের সঙ্গে এর অবস্থানগত সম্পর্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা এখন জরুরি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভবনটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রাজউকের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীন চারতলা ভবন নির্মিত হলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি ব্যবস্থার নজরে সেটি এল না কেন? নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কীভাবে পালিত হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, ভবনটি যে জমিতে নির্মিত হয়েছে, তার প্রকৃত মালিকানা ও ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি কী? দ্বিতীয়ত, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী জায়গাটি মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকলে সেখানে ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে? তৃতীয়ত, রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি মালিক নিজেই স্বীকার করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সর্বোপরি, নির্মাণকাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নজরদারি ও তদারকির ভূমিকা কী ছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে রাজউক, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের নথিপত্র সমন্বিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমির মালিকানা, প্রকল্প এলাকার সীমানা, ভবন নির্মাণের সময়কাল এবং অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন জরুরি।
রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি প্রকল্পের জমি সংরক্ষণ, ভূমির সঠিক ব্যবহার এবং নির্মাণ আইন কার্যকর করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দিয়াবাড়ির এই ভবনটির নির্মাণের বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।