হাদি হত্যা মন্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬, ১৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি।
অভিযোগে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩-সহ একাধিক অজামিনযোগ্য ধারার উল্লেখ করে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া গত ২ জুন কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি বাংলাদেশের একটি আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগকারীর দাবি, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। পাশাপাশি এসব মন্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মতলায় ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতা ব্যানার্জি নাম উল্লেখ না করেই হাদি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে তার কাছে তথ্য রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থে এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশ করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পরিকল্পিতভাবে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এদিকে অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার বলেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য বাংলাদেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তার মতে, জনপরিসরে এ ধরনের মন্তব্য রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। আদালত খুললেই মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।