• ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব মা দিবস, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬, ১৩:২৮ অপরাহ্ণ
আজ বিশ্ব মা দিবস, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

‘মা’—পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে আপন এক শব্দ। জন্মের পর মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় এই ডাক। এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অফুরন্ত স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস।

 

প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ১০ মে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক নানা আয়োজনে মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন সন্তানরা। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন উপহার। আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন আবেগঘন ভাষায়।

 

বিশ্ব মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মায়ের অবদান, ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে স্মরণ করার একটি বিশেষ দিন। একজন মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় এবং আজীবনের সবচেয়ে নির্ভরতার জায়গা। সন্তানের সুখের জন্য একজন মা নীরবে নিজের জীবনের অসংখ্য স্বপ্ন বিসর্জন দেন।

 

মা দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। প্রাচীন গ্রিসে দেবতাদের জননী ‘রিয়া’র সম্মানে মাতৃত্ব উদযাপনের প্রচলন ছিল। তবে আধুনিক মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অ্যান জারভিস নামে এক শান্তিবাদী সমাজকর্মী নারী অধিকার ও জনসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন।

 

অ্যান জারভিস প্রায়ই বলতেন, মায়েদের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতি জানাতে আলাদা একটি দিন থাকা প্রয়োজন। ১৯০৫ সালে তিনি মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের মতো একটি সানডে স্কুলে মা দিবস পালন করেন।

 

পরবর্তীতে আনা জারভিসের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশেও মা দিবস ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

 

বিশ্ব মা দিবসের মূল বার্তা হলো—মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি সম্মান জানানো। কারণ মা শুধু একটি সম্পর্ক নয়, তিনি সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

 

আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের সুস্থতা, সুখ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সন্তান হিসেবে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই হোক সবার অঙ্গীকার—বিশ্ব মা দিবসে এমন প্রত্যাশাই সবার।