
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইমানদাররা রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে; তখন নামাজ কায়েম এবং যাকাত বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কার্যকর হয়। আর যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাঠামোতে বিশ্বাসী, তাদের মাঝে সেকুলারিজম কাজ করে, যার মূল ধারণা হলো ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা ভিত্তিতে পরিচালনা করা। রবিবার রাতে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে জেলা কওমি সংগঠনের আয়োজনে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন। মামুনুল হক বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা সেকুলারিজম মেনে নিতে পারে; কিন্তু কোনো মুসলমান যদি ঈমান ও ইসলাম আন্তরিকভাবে ধারণ করে, তবে তার পক্ষে সেকুলারিজমভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, যদি তারা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে রাষ্ট্র চালানোর পথে থাকে, তাহলে কোনো ইসলামী দলই তাদের সঙ্গে থাকতে পারবে না। যারা না বুঝে সেকুলার রাষ্ট্র চায় তারা মূর্খ, আর যারা বুঝে শুনে এমন রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাইছে তারা বেইমান ও কাফেরের দলে অন্তর্ভুক্ত—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত করেছিলেন, অথচ তার অনুসারীরাই আজ ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেশ পরিচালনার কথা বলছেন, যা মেনে নেওয়া হবে না।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে ভারতীয় মুসলমানসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং কোরআনের বিধান কার্যকর হবে। মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন—ব্রিটিশ হটাও আন্দোলনের নেতা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.)-এর ছোট ছেলে সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী (দেওবন্দ), জাফরাবাদ কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খাজা আহমদ উল্লাহ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা কবির আহমদ এবং জেলা কওমি সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবু সাঈদসহ আরও অনেকে।