খুলনায় ইসমাইল শেখ হত্যা: বিদেশি পিস্তল-গুলি ও গুরুত্বপূর্ণ আলামতসহ গ্রেফতার ৩
খুলনা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১৯:৫২ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
খুলনা মহানগরীতে মো. ইসমাইল শেখ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি-কার্তুজ, সিমকার্ড, পোশাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে খুলনা সদর থানার মহির বাড়ি বড় খালপাড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে মো. ইসমাইল শেখকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর খুলনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. ফারদিন খান (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সঙ্গে জড়িত অপর দুই আসামি মো. রায়হান মোল্লা (২৪) ও মো. সাইফুল হাওলাদার (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ তিন রাউন্ড গুলি, তিনটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ এবং বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নয়টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে ‘B-COMPANY’ লেখা ও সিংহের মাথার লোগোযুক্ত পাঁচটি গেঞ্জি, তিনটি কপালে ব্যবহারের উপযোগী সার্চলাইট, একটি কালো রঙের কলেজ ব্যাগ এবং একটি চামড়ার ছোট পার্স উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গেঞ্জিগুলো একটি গ্রুপের সদস্যরা লোগো চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজের ঘটনায় লবণচরা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিনজনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা পরিকল্পনা করেছে, আরও কারা সহযোগিতা করেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার মো. ফারদিন খানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। অপর আসামি মো. রায়হান মোল্লার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং মো. সাইফুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।