ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কারাগারে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জমির সীমানা নির্ধারণ ও নকশা তৈরির কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক এ অভিযান চালায়।
ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে গ্রেপ্তার রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ আসাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদক ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অভিযোগকারী লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা দেন। টাকা গ্রহণের পর তিনি তা তাঁর ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুদকের ফাঁদ দলের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের একটি খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টাকার নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের মিল পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজার বিভিন্ন দাগে অবস্থিত মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন।
জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। তবে প্রায় ছয় মাস লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
পরবর্তী সময়ে আসাদুল ইসলাম কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম। বিষয়টি তিনি দুদককে জানান।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর দুদক ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।