পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় আফগানিস্তান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১৮:১১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার মধ্যেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তান–এর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে চরম সংকটে ঠেলে দিয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে বিমান হামলার পর পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তবে রক্তক্ষয় এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান প্রশাসন সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। শুক্রবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তান রাজধানী কাবুলসহ কান্দাহার এবং অন্যান্য শহরে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করছে, তাদের সরকারবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীকে আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে প্রথমবারের মতো সরাসরি আফগান সরকারের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তালেবান মুখপাত্র দাবি করেন, হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যদিও বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে সীমান্ত এলাকায় আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলার পর দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে যে ‘পাকিস্তানি তালেবান’ বা টিটিপি জঙ্গিরা আফগানিস্তানে আশ্রয় পাচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে এবং এখনও সংলাপকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে। তিনি জানান, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়া, পাক্তিকা, খোস্ত ও লাঘমান প্রদেশে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং তাদের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তালেবান প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস উভয় দেশকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং আফগান ভূখণ্ড যেন জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, পরিস্থিতি এখন উন্মুক্ত যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সামরিকভাবে শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিপরীতে তালেবানরা দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রাখে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। আফগান সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজ জানিয়েছে, তালেবান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের মিরানশাহ ও স্পিনওয়ামে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আফগান তালেবানদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে কাতার। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে পারস্পরিক সম্মান ও আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।