• ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১৭:১৬ অপরাহ্ণ
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মোবাইল প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান যুগে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার যুক্তি বাস্তবতা বিবর্জিত। বরং এতে ভোটের অনিয়ম আড়াল হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।

নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার অন্যতম শর্ত।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাস্তবে এই নির্দেশনা নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কার্যক্রম কার্যত অচল করে দেওয়ার শামিল।

ডিআরইউ মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানস্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডিআরইউ স্পষ্টভাবে জানায়, মোবাইল ফোন ছাড়া আধুনিক সাংবাদিকতা কল্পনাই করা যায় না। তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন প্রকাশ, ছবি ও ভিডিও ধারণ, অনিয়ম নথিভুক্তকরণ এবং জরুরি যোগাযোগ—সবকিছুই মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল।

সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে বাধা দেওয়ার অর্থ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে অস্বচ্ছ করে তোলা।

ডিআরইউ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, নির্বাচন কমিশনের কিছু নির্দেশনা এবং সেগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে পরিকল্পিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ডিআরইউ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছে—অবিলম্বে নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এ ধরনের বিধিনিষেধকে গণমাধ্যমবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণে সংগঠন বাধ্য হবে।

ডিআরইউ আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চায়, স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস নেই এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় সংগঠন সর্বাত্মকভাবে সোচ্চার থাকবে।