হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করে চিকিৎসার মানকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার- স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, চিকিৎসা শিক্ষার কারিকুলাম নিয়ে প্রস্তাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার কারিকুলাম আরো আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে করা হবে। কারণ দেশের হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করে চিকিৎসার মানকে সরকার এগিয়ে নিতে চায়।
আজ রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, হস্তান্তরিত লেটেস্ট মডেলের এই আধুনিক মাইক্রোস্কোপটির মাধ্যমে এখন থেকে এক সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যান্সার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে। একই সাথে হাসপাতালের ডিআই সাপ্লাইয়ের অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি বেসরকারি খাতের মতো চলবে কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাচের। কোম্পানি ফর্ম করে পরিচালনা করা হবে এবং হাসপাতালটি হবে অলাভজনক। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ বা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মডেলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক পদ্ধতিতে এটি পরিচালিত হবে। আমরা একটি গঠনপ্রণালী তৈরি করে দিয়েছি এবং যন্ত্রপাতি দিয়েছি। এটি উন্নত মানের হাসপাতাল হবে। সরকার এই হাসপাতালের রেট নির্ধারণ করে দেবে যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পায়। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই মাস ধরে সরকার জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।
স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।