
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলাধীন কনেশ্বর ইউনিয়নের আতলা কুড়িগ্রাম এলাকায় “মুক্তিযোদ্ধা সড়ক” নামে একটি আধাপাকা সড়ক পুনরায় পূর্ণাঙ্গ পাকাকরণ কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বীর মুক্তিযোদ্ধা অলু বেপারীর বাড়ি থেকে শুরু হয়ে আতলা কুড়িগ্রাম মসজিদ হয়ে পূর্ব দিকে কালাচান বেপারীর বাড়ি অতিক্রম করে দক্ষিণ আতলা কুড়ি মসজিদ হয়ে কালু খানের বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এই কাজটি শরীয়তপুর জেলা ডামুড্যা উপজেলাধীন কনেশ্বর ইউনিয়নের আতলা কুড়িগ্রামে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হলেও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাচ্চু মিয়া। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ইচ্ছামতো নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও শিডিউল বহির্ভূতভাবে কাজ সম্পন্ন করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার বেস ও সাব-বেসে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক স্থানে গাইড ওয়ালের পুরুত্ব কম রাখা হয়েছে এবং যথাযথ কম্প্যাকশন ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও বাস্তবে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। শিডিউল অনুযায়ী কাজ হলে রাস্তা অনেক বেশি টেকসই হতো। কিন্তু ঠিকাদার দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নিয়ম মানছে না।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, কাজ চলাকালীন কোনো প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে প্রকল্পের মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে শিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা যায় এবং এলাকাবাসী একটি টেকসই সড়ক সুবিধা পায়।