• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১১ কোটি টাকায় সাড়ে ৩ লাখ এনআইডি তথ্য বিক্রি, ইসির ২ কর্মচারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৬:৪৬ অপরাহ্ণ
১১ কোটি টাকায় সাড়ে ৩ লাখ এনআইডি তথ্য বিক্রি, ইসির ২ কর্মচারী আটক
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আল আমিন (৩৯)। তদন্তে জানা যায়, মাত্র ৩০ দিনে তারা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেন। প্রতিটি তথ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একইদিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত মো. হাবীবুল্লাহকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে— গ্রেফতার আল আমিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা যেত। পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগে তিনি ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে তিনি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করতেন।

অন্যদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন। নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারা মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে প্রায় ১১ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানায়, এই অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...