• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেশের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেওয়া উদ্যোগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতির কারণে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ-চীনের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় আকারের মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে মাঝারি ও ছোট প্রকল্পেও চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের পণ্য উৎপাদনভিত্তিক একটি কেন্দ্রে পরিণত করতে আগ্রহী। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট এবং জ্বালানি ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত রাখবে। তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ সময় ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) নির্বাহী পরিষদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতার পক্ষে চীন সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন স্পিকার।

বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।