১৮ মিলিয়ন ডলারে নিষ্পত্তির পথে গৌতম আদানির জালিয়াতি মামলা, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৭, ২০২৬, ১৫:২৯ অপরাহ্ণ
গৌতম আদানিফাইল ছবি
সংবাদটি শেয়ার করুন....
যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত জালিয়াতি মামলার নিষ্পত্তির পথে এগোচ্ছেন ভারতের শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি। মামলার সমঝোতার অংশ হিসেবে তারা ১ কোটি ৮০ লাখ (১৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ২০২৪ সালে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া এবং বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের সময় বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা কার্যকর হতে হলে মার্কিন আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে আদানি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও বাড়তে শুরু করে।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, গৌতম আদানি ও সাগর আদানি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার কিংবা অস্বীকার—কোনোটিই করবেন না। তবে ভবিষ্যতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা, সিকিউরিটিজ জালিয়াতি কিংবা বাজার কারসাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করবেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, Adani Green Energy ঘুষবিরোধী নীতি অনুসরণ করছে—এমন ধারণা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার একটি অংশ আসে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।
তবে শুরু থেকেই Adani Group এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” দাবি করে আসছে এবং নিজেদের নির্দোষ বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সাময়িকী Forbes–এর তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হন।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগও প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছে। নতুন আইনজীবী দল নিয়োগের পর বিচার বিভাগীয় আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে আদানি গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ ও হাজারো কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিষয়টি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারনীতি ও করপোরেট সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।