• ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের সম্ভাব্য বিষয়বস্তু তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার পাশাপাশি আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরা হবে।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটি প্রথম অংশগ্রহণ। ফলে আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ এই মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নতুন করে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবেন তিনি।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুষ্ঠিত একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হবে।

পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের সামনে সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো—স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উদ্বেগ তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও এ সময় গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবেন।

বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের জন্য বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরবেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের সব কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে।