টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলের চেষ্টা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ;
আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২৬, ২০:১৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৭ নম্বর দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লাভলু মিয়া (লাবু)-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলের চেষ্টা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাল মিয়া প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী লাল মিয়ার দাবি, তিনি একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত এবং তার মালিকানাধীন প্রায় এক বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিশের উদ্যোগ নেন। সেই সালিশে তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িঘর ও জমি ছেড়ে না দিলে তাকে উচ্ছেদ করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়।
লাল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও হুমকি-ধমকি বন্ধ হয়নি। বরং সম্প্রতি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
লাল মিয়া বলেন, “আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। প্রশাসনের কাছে আমার একমাত্র দাবি—নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের দাবি, এলাকায় তার প্রভাবশালী অনুসারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে রাজি হননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ফারুক খানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লাভলু মিয়া (ওরফে লাবু)। এছাড়া টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছোটমনি ও বড় মনি সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও চাঁদাবাজিসংক্রান্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। লাভলুর কথিত এসব কর্মকাণ্ড বর্তমানে অব্যাহত রাখেন। এ কারণে তাকে দল থেকে একাধিকবার বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে লাভলু মিয়ার উপস্থিতির স্থিরচিত্রসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও স্থিরচিত্রে চেয়ারম্যান লাভলু মিয়াকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা যায়। তবে এসব ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সরাসরি সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মোঃ লাভলু মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি পরবর্তীতে বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এলাকার সচেতন মহলের অভিমত, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৭ নম্বর দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া (লাবু)-এর বিরুদ্ধে অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, লাভলু মিয়া একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সদস্য। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি আবারও দলে সক্রিয় হন।
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লাভলু মিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের স্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং একটি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতাদের কাছেও রয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগসমূহের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত, স্থিরচিত্র (স্টিল ছবি) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্তকারী সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট আদালতের নিকট এসব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।