নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সংকট শনাক্ত করবে প্রযুক্তি- বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৬, ২০:৩৭ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য
নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে-সেগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, একসময় একটি তথ্য পেতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হতো এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। এআই ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবে। তিনি জানান, এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে-কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। যেসব সংস্থা এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য উৎস ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করবে।
দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য জানিয়ে তিনি বলেন এর মাধ্যমে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।