• ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়তে হবে: আইনমন্ত্রী

নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা, প্রতিটি কোম্পানিতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান চালুর উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়তে হবে: আইনমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর করার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

নবীন আইনজীবীদের মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই বিচারাঙ্গনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। মেধা, প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হয়। একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ আল্লাহর পর আইনজীবীর কাছেই আস্থা ও ভরসা নিয়ে আসেন। তাই মক্কেলের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক আইনজীবীর নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে হবে এবং আইনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারকরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে তাঁকেও আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে।

আদালত অঙ্গনে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভের পরিবর্তে আইনের চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক আইনজীবীকে আদালতে আইনের কথা তুলে ধরতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নবীন আইনজীবীদের পেশাগত সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সনদ পাওয়ার পর অনেকেই আইন পেশায় প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ করেও তাঁরা যথাযথ সহযোগিতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিতে আইনজীবীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান চালুর লক্ষ্যে কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইন পেশায় সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আইনজীবীদের দায়িত্ব। একজন আইনজীবী ১০টি মামলা পরিচালনা করলে অন্তত দুটি মামলা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব হত্যাকাণ্ড, অন্যায় ও অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের বেশি সময়ের আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারানো, সাত শতাধিক মানুষের গুম এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করার ঘটনা ঘটেছে। এসব অন্যায়-অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নবীন আইনজীবীদের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাধীন, শক্তিশালী, কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।