• ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফটিকছড়িতে হেফাজতের দ্বীনি মহাসম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, গণহত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন জনগণ মেনে নেবে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ণ
আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবে না। গণহত্যা, জুলুম-নির্যাতন ও মানুষের রক্তের সঙ্গে যারা জড়িত, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে ও আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ এবং ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল। আর ফ্যাসিবাদী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬-১৭ বছর লড়াই করতে হয়েছে। এ আন্দোলনে আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজের অনেকে শহীদ হয়েছেন। রক্তের বিনিময়ে জনগণ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে গত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, দেশের মানুষ আবার ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন চায় কি না। একই সঙ্গে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইসলামী রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও দলীয় ঘোষণাপত্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই। মুখের কথার সঙ্গে দলীয় নীতির সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তারা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির ধারায় সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে বিভেদ কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সংবিধান থেকে এ বিষয়টি বাদ দিয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় ধারণ করতে চান।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তারা সেই রাজনৈতিক আদর্শের ধারক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও নীতিগত মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে যারা দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরিয়েছে এবং মসজিদে নামাজ আদায়ের পরিবেশ নষ্ট করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের মানুষ আর কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না।