
ব্রাজিল থেকে শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্রুনা ফেরেইরা বড় হয়েছেন একদম আমেরিকানদের মতোই—স্কুলে টেনিস টিমে খেলা, বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ, ছোট ব্যবসা গড়া এবং তার ছেলেকে বড় করা। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে বোস্টনের উপশহরে বাড়ি থেকে বের হয়ে ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার পথে আইসিই এজেন্টরা তাকে আটক করে। বিষয়টি শুরুতে তেমন আলোচনায় না এলেও পরে জানা যায়, তার ছেলের ফুফু হচ্ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট।
আটকের সময় ফেরেইরা বারবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও তা কাজে আসেনি বলে জানান তার বোন গ্রাজিয়েলা। ফেরেইরার সাবেক বাগদত্তা—তার ছেলের বাবা—হলেন লেভিটের ভাই মাইকেল লেভিট। এ তথ্য প্রকাশের পর ফেরেইরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতীক হিসেবে আলোচনায়।
সরকার তাকে “অপরাধী অবৈধ অভিবাসী” বলে দাবি করলেও তার আইনজীবীরা জানান, তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি শিশুবয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসায় পূর্বে ডিএসিএ (DACA) সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী ফেরেইরা লুইজিয়ানার একটি আইসিই আটক কেন্দ্রে আছেন এবং দেশ ছাড়ার মুখে দাঁড়িয়ে। তার বোনের ভাষ্যে, তিনি ছয় বছর বয়সে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, কিন্তু নিজের আইনগত অবস্থানের জন্য তিনি দায়িত্ববান ছিলেন না।
আইনজীবী টড পোমারলোর মতে, ফেরেইরা তার গ্রিনকার্ডের জন্য ২৭ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন।
ফেরেইরা বেড়ে উঠেছেন বোস্টনে এবং ২০১১ সালে মেলরোজ হাই স্কুল থেকে পরালেখা করেন। স্কুলের ইয়ারবুকে তিনি লিখেছিলেন—“La vita e bella” (Life is beautiful)।
হাইস্কুলের পরপরই তিনি বিয়ে করেন, তবে এক বছর পর তারা আলাদা হন এবং ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি সম্পর্কে জড়ান মাইকেল লেভিটের সঙ্গে, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের পারিবারিক গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একটি পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফ্যান্টাসি ফুটবলে ১ মিলিয়ন ডলার জেতার পর ফেরেইরা, মাইকেল এবং তাদের শিশুকে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।
পরিবারটি তখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল—ফেরেইরার কথায়, “আমাদের বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। আমাদের স্বাস্থ্য আছে, সুন্দর ঘর আছে—আমরা আশীর্বাদধন্য।”
কিন্তু তাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ছেলে পরবর্তীতে বাবার সঙ্গে নিউ হ্যাম্পশায়ারে থাকলেও ফেরেইরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন, রান্না করতেন এবং উৎসবে ছেলেকে নিয়ে সময় কাটাতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সঙ্গে ছবি ও মুহূর্তগুলো তা স্পষ্ট করে।
তার বোন জানান, পরিবারের কেউই ক্যারোলাইন লেভিটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি মাইকেল লেভিট তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু পরিবারের দাবি—যুক্তরাষ্ট্রই ফেরেইরার ঘর।
এদিকে ফেরেইরার ছেলে মায়ের অনুপস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বোনের ভাষ্যে, “সে বারবার জিজ্ঞেস করছে—মা কবে বাড়ি আসবে? থ্যাঙ্কসগিভিং এ আসবে? ক্রিসমাসে আসবে?”
ফেরেইরার আইনজীবী জানান, তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কাঁদছিলেন এবং বারবার বলছিলেন—“আমি আমার ছেলেকে চাই।”
ICE detention, Immigration crackdown, Karoline Leavitt family, Brazilian immigrant arrest, DACA recipient detained, US immigration news, Boston immigrant case