• ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে গুরুত্ব

২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে টোকিও যাচ্ছেন তারেক রহমান, খাতভিত্তিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে গুরুত্ব
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সফরে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ এখন শুধু সাধারণ সহযোগিতা নয়, বরং নির্দিষ্ট খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানের বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে তারেক রহমান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। ওই সম্মেলনে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবিরের মতে, ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতি জাপান সরকারের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে। আসন্ন সফরে এ ইতিবাচক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সৌদি আরব সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন।

তিনি আরও জানান, সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে ঢাকায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে।

মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন।

তিনি বলেন, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর সুরক্ষায় কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

এ ছাড়া বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফরকে সামনে রেখে এখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রগতি কতটা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।