• ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....
সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের কল্যাণ, ন্যায্য দাবি, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি প্রসঙ্গে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। তাই আপনাদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।’
তবে জাতীয়করণের ফলে শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বদলি, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে দাবিটি বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
মন্ত্রী জানান, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারিভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সরকারি বেতন-সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।
ড. মঈন খান বলেন, পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পরে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও ওই সিদ্ধান্তের সুফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষকরাই দেশের তরুণ সমাজকে গড়ে তোলেন। তাই নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে শিক্ষকদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল নয়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশকে উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...