• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়

নবগঠিত দল টিভিকের জোট সরকার গঠন; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬, ২৩:৩৩ অপরাহ্ণ
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য তামিলনাড়ু-এর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা সি. জোসেফ বিজয়। রাজনৈতিক দল টিভিকে জোট গঠন করতে সক্ষম হওয়ার পর রাজ্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

রাজধানী চেন্নাই-এ কয়েকদিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজারো সমর্থক অংশ নেন। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম-এ সমবেত সমর্থকরা “মুধালভার” (তামিল ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী) স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।

মাত্র দুই বছর আগে গঠিত টিভিকে দলটি তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রথমদিকে জোট গঠনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে দলটি।

পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-সহ কয়েকটি দলের সমর্থন পাওয়ার পর টিভিকের আসনসংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়, ফলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় বিজয়ের।

শপথ গ্রহণের পর সমর্থকদের উদ্দেশে ৫১ বছর বয়সী বিজয় বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক রাজবংশ থেকে আসিনি, আমি একজন সাধারণ মানুষ।”

তিনি জানান, তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে শিক্ষা, রেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

বিজয়ের প্রথম দফার নীতিগত পদক্ষেপের মধ্যে বিদ্যুতের দাম কমানো এবং নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে।

চলচ্চিত্র জগত থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় দীর্ঘদিন ধরেই তামিল সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। খ্রিষ্টান বাবা ও হিন্দু মায়ের সন্তান বিজয় ১৯৮৪ সালে তার চলচ্চিত্র নির্মাতা বাবার পরিচালিত সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন।

অ্যাকশনধর্মী ও সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার ভক্তরা তাকে “থালাপতি” বা “নেতা” উপাধিতে ভূষিত করেন।

কৃষক সংকট, দুর্নীতি, নির্বাচনী অনিয়মসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ভিত্তিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি পান বিজয়।

২০২৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি টিভিকে গঠন করেন। দলটির নির্বাচনী প্রচারণার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা খাজাগাম এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা খাজাগাম-এর আধিপত্য ভাঙা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী এবং তরুণদের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাহিদাই তার এই বিস্ময়কর নির্বাচনী সাফল্যের প্রধান কারণ।

তবে রাজনৈতিক নবাগত হিসেবে জনপ্রিয়তাকে কার্যকর প্রশাসনিক দক্ষতায় রূপ দেওয়া এখন তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার সমাবেশগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনাও ওঠে। গত সেপ্টেম্বরে একটি সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তবুও তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে বিশ্লেষকদের মত।