• ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চাই: সালাহউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ণ
বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চাই: সালাহউদ্দিন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্ক যাতে সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং এতে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত আসবে। এর আগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়ন করতে চায় কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে না রাখাই ভালো হবে বলে মনে করছে কমিটি।

তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ সহজেই এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি রয়েছে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে আন্তরিক। বিচার স্বাধীনভাবে চলছে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তদন্ত, প্রসিকিউশন ও অভিযোগ গঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কাজগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন অংশ নেন। তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দেন।

আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব আসে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনগত জটিলতা দূর করা, তাঁদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পাশাপাশি সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধানসহ বিভিন্ন প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে তাঁদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আমন্ত্রিত অতিথিদের দেওয়া সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতিথিরা জুলাই ও গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও এসেছে।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও শক্তি যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য করা আইনটি অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাঁদের মতামত পাওয়ার পর কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।