শিশু সহিংসতা মামলায় কঠোর সাজা, ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড ও ৪ যাবজ্জীবন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
শিশু সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় সাজা হয়েছে—দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
শিশু সহিংসতা দমন ও প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের আওতায় বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে শিশু সহিংসতার মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত ৭ জুন পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের আওতায় অপরাধের বিচার করতে প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে সরকার কোনো জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করতে পারে। এসব ট্রাইব্যুনালের মূল লক্ষ্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
এর ধারাবাহিকতায় শিশু ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা, ভুক্তভোগীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর একটি। নবগঠিত এ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মামলাগুলোর বিচার এখানে করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ট্রাইব্যুনালে ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। এসব মামলার দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বাসসকে বলেন, শিশু সহিংসতার মামলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব মামলায় শুধু কারাদণ্ড নয়, মৃত্যুদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের রায়ও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা ট্রাইব্যুনাল কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে।