চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম—এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন—বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজন করে এই অনুষ্ঠান।
আন্দালিভ রহমান বলেন, একটা সময় সিনেমার বার্তা দর্শক শুধু চোখ দিয়ে দেখতেন না, তা হৃদয়েও গেঁথে যেত। তাই প্রতিটি চলচ্চিত্রে নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত নির্মাতা আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রে সামাজিক ও মানবিক বার্তা তুলে ধরার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সমাজের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের বৈষম্য। এসব সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আন্দালিভ রহমান বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারও পুরোনো গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, চলচ্চিত্র খাতের সংকট কাটিয়ে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, মাসুদ পারভেজ, এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকেরসহ গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ সময় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।