• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১৬:২৬ অপরাহ্ণ
এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা বাংলাদেশের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি ল্যান্ডভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার কারণে দেশে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এই চাহিদা পূরণে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন যুক্ত হতে পারে। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও উৎস ও পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর বিষয়টিও তুলে ধরেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত এই দরপত্রে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলেও সম্মেলনে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...