• ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের গুরুত্বারোপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ২৩:৫০ অপরাহ্ণ
খাদ্য সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের গুরুত্বারোপ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষ উপকৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে খাদ্য সংরক্ষণ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে সচিবালয়ে স্বাগত জানান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, খাদ্যশস্য আমদানি, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য সংরক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। চাল নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল। এ সময় তিনি পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যশস্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ফলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তিনি বলেন, বিশেষ করে করাচিতে বসবাসরত মানুষ এ যোগাযোগের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে তিনি জানান।

সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান হায়দার।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কৃষিপণ্যের বাজার বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা যেতে পারে। পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণ ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব বাণিজ্যে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একে অপরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে ওয়াকাস ইয়াসিন, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।