• ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, চিকিৎসকের নামহীন প্রেসক্রিপশন

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ২৩:৩৯ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, চিকিৎসকের নামহীন প্রেসক্রিপশন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের নাম, পদবি, সিল ও নিবন্ধন নম্বরবিহীন প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধ বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিনা মূল্যে ওষুধ না পাওয়ায় দরিদ্র রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৩ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও প্রান্তিক রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কাউন্টারে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনা মূল্যে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে তাঁদের বাইরের ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসাব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তাঁরা মনে করছেন।

অনুসন্ধানে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫/২০২৬ ইংরেজি তারিখে বহির্বিভাগে দেওয়া একটি প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম, পদবি, সিল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের প্রেসক্রিপশন চিকিৎসকের পরিচয় ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে রোগীদের ওষুধ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওষুধ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা ফার্মাসিস্ট হিসেবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা ওই ব্যক্তির রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ ইফতেখায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ বিতরণকারীর দাপ্তরিক পদবি, পেশাগত যোগ্যতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অসুস্থ রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধে দ্রুত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি হাসপাতালের সেবাবিধি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের দাবি, অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চিকিৎসকদের যথাযথ পরিচয়সংবলিত নিয়মতান্ত্রিক প্রেসক্রিপশন প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।