• ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেটা সেন্টার নির্মাণে ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন উজাড়, ফিনল্যান্ডে গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ডেটা সেন্টার নির্মাণে ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন উজাড়, ফিনল্যান্ডে গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য উত্তর ফিনল্যান্ডে ৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে গুগলের বিরুদ্ধে। পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া বন উজাড় করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির তদারকি সংস্থা।

নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে উত্তর ফিনল্যান্ডের একটি গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান, অর্থাৎ ৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল উজাড় করেছে গুগল। তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও ছাড়পত্র ছাড়া এ কাজ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

ফিনিশ পরিবেশ রক্ষা সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির তদারকি সংস্থা ফিনিশ সুপারভাইজরি এজেন্সি।

ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন হান্না হালমিনপা বলেন, আইনি বিষয়গুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত। উপগ্রহের ছবিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে বলেও তিনি জানান।

তবে গুগল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বন আইন মেনেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি বিস্তারিত প্রাকৃতিক জরিপের মাধ্যমে সুরক্ষিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো অক্ষত রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে গুগল।

ইউরোপে গুগলের একক বৃহত্তম বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে ফিনল্যান্ডে ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস পৌরসভার অধিগ্রহণ করা এলাকায় বর্তমানে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ চলছে।

মুহোসের মেয়র কিম্মো হিনো আশা করছেন, এই বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তবে প্রকল্পটির জ্বালানি ব্যবহার ও পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুগলকে তাদের এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঠান্ডা জলবায়ু এবং পরমাণু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সহজলভ্যতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ফিনল্যান্ড ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকারও অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্ব মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তবে গুগল, মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব এবং বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় আরও কঠোর বিধিমালার দাবিতে করা একটি নাগরিক আবেদনে মাত্র তিন দিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ফলে ডেটা সেন্টার প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন ফিনল্যান্ডের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।