• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লার পোশাক কারখানায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

এজিএম ইদ্রিস আলীর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সন্দেহ; সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ফতুল্লার পোশাক কারখানায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ফতুল্লা-য় একটি পোশাক কারখানার ভেতর থেকে এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর কারখানার শ্রমিকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈভোগ এলাকায় অ্যাসরোটেক্স গ্রুপ-এর ‘ফারিহা নিটটেক্স লিমিটেড’ কারখানার একটি স্টোররুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইদ্রিস আলী (৪৩) সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি কারখানাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, সকালে কারখানার স্টোররুমে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

কারখানার সিকিউরিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন,
“সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছুটির পর তার গাড়িতে করে বাসায় ফেরার কথা ছিল। সহকর্মীরা ফোন করেও তাকে পাননি। পরে তাকে ছাড়াই গাড়ি চলে যায়।”

তিনি আরও জানান, যে স্টোররুমে মরদেহ পাওয়া গেছে, সেটির দায়িত্বও ইদ্রিস আলীর ওপর ছিল এবং ঘরটির লাইট বন্ধ ছিল।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন,
“প্রতিদিন কারখানার গাড়িতেই তিনি বাড়ি ফিরতেন। সোমবার রাতে না ফেরায় ফোন দিলেও কেউ ধরেনি। পরে কারখানার কর্মকর্তাদের জানালে তারা বলেন, উনি কারখানায় নেই। সকালে শুনি স্টোররুমে লাশ পাওয়া গেছে।”

তিনি দাবি করেন,
“উনি নামাজ-কালাম পড়তেন, ভালো মেজাজের মানুষ ছিলেন। তার আত্মহত্যা করার কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর কারখানার শ্রমিক ও সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ‘হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে’— এমন অভিযোগ তুলে তারা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি জানান।

ওসি মাহবুব আলম বলেন,
“পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে গেলে শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে। পরে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”