সাড়ে পাঁচ বছরে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ২২:৫৭ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের মুদ্রা টাকা। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং রিজার্ভ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে টাকার ওপর চাপ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য বেড়েছে আরও শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ; এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকায়। এর আগে ২০২১ সালে ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা, যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়ার মতে, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি টাকার শক্তিশালী অবস্থান বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি পরিশোধ ও বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাজারে তারল্য বাড়ার সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কেনা হয়েছে, যা রিজার্ভ পুনর্গঠনেও সহায়তা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।