• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় সংস্কারে যাচ্ছে সরকার

১২ মাসের অস্থায়ী লাইসেন্স, ‘ওয়ান লাইসেন্স’ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ একীভূত করার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ১৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় সংস্কারে যাচ্ছে সরকার
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জটিলতা কমাতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। উদ্যোক্তাদের জন্য লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়-এ গবেষণা সংস্থা বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের যেন দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে না হয়, সেজন্য ফায়ার সার্ভিস, ডিআইএফই ও চেম্বার সদস্যপদসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১২ মাসের অস্থায়ী অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,
“এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার উন্মুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে পাট খাতের আধুনিকায়ন ও বহুমুখীকরণে সরকার আগ্রহী।

তিনি জানান, সবুজ পাট থেকে জুট পাল্প উৎপাদন ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হতে পারে।

বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-সহ বিভিন্ন বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে আবুল কাসেম খান বলেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে ডিরেগুলেশন সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্তমান ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি ‘ওয়ান লাইসেন্স’ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কামরান টি রহমান বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পাট খাত এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ খাতের আধুনিকায়ন জরুরি। উৎপাদন দক্ষতা ও মূল্য সংযোজন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন।

বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পণ্যের ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন,
“রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে একটি শক্তিশালী জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রয়োজন।”